বিনোদন ডেস্ক: পর্দার জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানকে নিয়ে মার্ভেল ভক্তদের উন্মাদনা সবসময়ই আকাশচুম্বী। তবে এবার মাল্টিভার্স বা মহাজাগতিক মারামারির জটিল গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে একদম ভিন্ন আবহে পর্দায় হাজির হয়েছেন আমাদের সবার প্রিয় ‘ফ্রেন্ডলি নেইবারহুড’ স্পাইডার-ম্যান। অনবদ্য আবেগ, নজরকাড়া হিউমার এবং শ্বাসরুদ্ধকর হিরোইজমের এক অনন্য মিশ্রণে নির্মিত হয়েছে নতুন ছবি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
চলচ্চিত্র বিষয়ক বিশ্বখ্যাত পোর্টাল ‘বলিউড হাঙ্গামা’র প্রকাশিত সমালোচনায় সিনেমাটিকে একটি ‘হৃদয়স্পর্শী মাস্টারপিস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
গল্পের প্লট ও চরিত্র নির্মাণ
‘নো ওয়ে হোম’-এর অভাবনীয় পরিণতির পর স্পাইডার-ম্যান তথা পিটার পার্কারের জীবন যেখানে এসে থমকে গিয়েছিল, সেখান থেকেই শুরু হয় ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র গল্প। পুরো পৃথিবী এখন ভুলে গেছে পিটার পার্কার কে! এই চরম একাকীত্ব, হারানোর বেদনা এবং নিজের পরিচয় লুকিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াইকে অত্যন্ত দরদ দিয়ে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক।
পর্দার পিটার পার্কার অর্থাৎ টম হল্যান্ডের অভিনয় ছিল এক কথায় অনবদ্য। এক নিঃসঙ্গ তরুণের মানসিক টানাপোড়েন এবং একই সাথে শহরের সুরক্ষায় স্পাইডার-ম্যানের দায়িত্ব পালন—দুই সত্তাকেই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল আকর্ষণ: মাল্টিভার্সের বাইরে ‘আসল’ স্পাইডার-ম্যান
সাম্প্রতিক সময়ে সুপারহিরো সিনেমা মানেই ছিল মাত্রাতিরিক্ত সিজিআই (CGI) এবং জটিল মাল্টিভার্সের সমাহার। তবে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত ধারা ভেঙে স্পাইডার-ম্যানের আসল মূল বা ‘রুট’-এ ফিরে গেছে। এখানে অতিপ্রাকৃতিক জটিলতার চেয়ে মানুষের ভেতরের আবেগ, বন্ধুত্ব, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সিনেমা দেখতে দেখতে দর্শক আবার সেই ক্লাসিক স্পাইডার-ম্যানের ফিল পাবেন, যা দীর্ঘদিন ধরে ভক্তরা মিস করছিলেন।
অ্যাকশন, ডায়ালগ ও কমেডি
সিনেমায় অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি এক কথায় অসাধারণ। থ্রিল ও রোলারকোস্টার রাইডের অনুভূতি দেওয়ার পাশাপাশি হাস্যরসে ভরপুর সংলাপ দর্শকদের টানা ধরে রাখবে। স্ক্রিপ্টের টাইট পেসিং ও কৌতুকপূর্ণ মুহূর্তগুলো গম্ভীর আবহকেও বেশ উপভোগ্য করে তুলেছে।
কেন দেখবেন?
যারা অ্যাকশন ও ভিএফএক্স-এর পাশাপাশি একটি দুর্দান্ত গল্প এবং মনের গভীর স্পর্শ করে যাওয়ার মতো সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মাস্ট-ওয়াচ। একাকীত্ব কাটিয়ে উঠে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এ গল্প শুধু স্পাইডার-ম্যান ভক্তদেরই নয়, সাধারণ যেকোনো সিনেমা প্রেমিকের মন জয় করে নেবে।
রেটিং: ৪.৫/৫ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: এটি শুধুই একটি সুপারহিরো মুভি নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প। সুপারহিরো ঘরানার সিনেমায় ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নিঃসন্দেহে এক দারুণ ও সতেজ সংযোজন।
বাংলাদেশে প্রদর্শনী ও শো-টাইম
বাংলাদেশে ৩০ জুলাই থেকে সিনেমাটি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শকরা প্রধান প্রধান সিনেপ্লেক্সগুলোতে ছবিটির আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন:
* স্টার সিনেপ্লেক্স (Star Cineplex): বসুন্ধরা সিটি, বসুন্ধরা টগি ওয়ার্ল্ড (পান্থপথ), এসকেএস টাওয়ার (মহাকালী), সীমান্ত সম্ভার (ধানমন্ডি), সনি স্কয়ার (মিরপুর), এবং সিজেকেএস সিনেপ্লেক্স (চট্টগ্রাম) সহ অন্যান্য সকল শাখায় সিনেমাটি 2D ও 3D ফরম্যাটে দেখা যাচ্ছে। (স্টার সিনেপ্লেক্সের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রতিদিন সকাল ১১:০০টা, দুপুর ১:৩০টা, বিকেল ৪:০০টা এবং সন্ধ্যা ৭:০০টার বিভিন্ন শো-এর টিকিট বুকিং চালু রয়েছে।)
* ব্লকবাস্টার সিনেমা (যমুনা ফিউচার পার্ক):
* ক্লাব রয়্যাল: বেলা ১১:৩০ ও বিকেল ৪:৫০
* আইরিস: দুপুর ১:৫৫ ও বিকেল ৫:০০
* মনটাজ: দুপুর ২:৫৫ ও সন্ধ্যা ৬:২০
* এক্সপোজার: বিকেল ৪:০০ ও রাত ৭:২৫
* লায়ন সিনেমা হল (কেরানীগঞ্জ): দুপুর ১২:০০, বিকেল ৩:০০, এবং সন্ধ্যা ৬:১৫।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিকিটের চাহিদা এবং দিনভেদে শো-টাইমে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। টিকিট কাটার পূর্বে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে রিয়েল-টাইম শিডিউল দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)
মন্তব্য করুন