আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বুয়েনস আইরেসে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূত জুলিও বিতেলিকে তলব করে ফিরিয়ে নিয়েছে ব্রাজিল সরকার।
স্থানীয় সময় রবিবার ব্রাজিলের সাঁও পাওলোতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ বিতর্কিত মন্তব্য করেন মিলেই। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সমাবেশে লুলার নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তার দিকে ইঙ্গিত করে কটু মন্তব্য করেন মিলেই। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, একমাত্র বলসোনারোই ‘লুলাকে থামাতে পারেন’।
মিলেইয়ের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ব্রাজিলের কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ব্রাজিলের সরকার, এর জনগণ এবং দেশটির গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি অপমানজনক।
পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা বলেন, ‘অন্য কারো হস্তক্ষেপ ছাড়াই’ তিনি দেশ পরিচালনা করে যাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ব্রাজিলে আমরা অনাহূত কারো নাক গলানো বরদাস্ত করি না।’
সমাবেশে মিলেই ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসকেও ‘ন্যাড়া আবর্জনা’ বলে গালি দেন। বিচারপতি মোরায়েস পূর্বে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত করেছিলেন এবং গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় তাকে দেখতে যাওয়ার বিষয়ে মিলেইয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন দেশটির সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। গত নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে যাওয়ার পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে ক্যু বা অভ্যুত্থানের চক্রান্তের অভিযোগে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালে একটি বড় ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় লুলার ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। ১৮ মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার সেই দণ্ড বাতিল করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে (৫০.৯% ভোট পেয়ে) পরাজিত করে পুনরায় ব্রাজিলের ক্ষমতায় আসেন লুলা।
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের শীর্ষ দুই নেতার এই বাকযুদ্ধে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন