(যশোর জেলা) প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত মৎস্যঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে টানা বর্ষণে পারখাজুরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরের কারণেই প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল গভীর রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাতের পর রাজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানির তীব্র স্রোতে পারখাজুরা ও আশপাশের গ্রামের নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘেরের কারণে খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
এদিকে প্লাবনের তীব্র স্রোতে পারখাজুরা বাজার সংলগ্ন নলতা ভাসমান সেতুর সংযোগ পাকা সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গেছে। এতে রাজগঞ্জসহ আশপাশের তিন থেকে চারটি গ্রামের মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ভেঙে যাওয়া সড়ক সংস্কার এবং অপরিকল্পিত মৎস্যঘের নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দেওয়ান বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের নির্মাণের দায়ে এর আগে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। নতুন করে কাউকে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন