হাফসা আক্তার :
ঢাকা জেলার আশুলিয়ার মধুপুরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া হাসিবুল ইসলাম জনি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ঢাকা জেলা। ঘটনার দেড় বছর পর মামলার ২ আসামি মো. শাহ জাল সরকার ও মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শাহ জাল সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ সকালে উত্তরা ১৩ নং সেক্টর পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ পিপিএম-সেবা
এসব তথ্য জানান।
গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত ৮টার দিকে আশুলিয়া থানার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় হাসিবুল ইসলাম জনি ২১, পিতা শহিদুল ইসলাম, সাং হরিচরণ লস্কর, রংপুর-কে অজ্ঞাত আসামিরা মারপিট করে হত্যা করে। পরে জনৈক নাজমুল হোসেনের পুকুরে মৃতদেহ ফেলে দেয়। ৪ দিন পর পুকুরে অর্ধগলিত মৃতদেহ ভেসে উঠলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তা উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলা নং ২৭, তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।
পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মামলাটি পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে অধিগ্রহণ করে। উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা ও পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ পিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে তদন্ত টিম ছায়া তদন্ত চালায়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ জুন ২০২৬ আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ৪০, পিতা নূর আলী খান, সাং উদয়পুর, রাজবাড়ী-কে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গ্রেফতারকৃত আসামি মো. শাহ জাল সরকার ২৮, পিতা আলমগীর সরকার, সাং পটল, ধামরাই-এর দেওয়া তথ্যমতে সাইফুলকে শনাক্ত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শাহ জাল সরকারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা বলেন,
১৬৪ ধার জবানবন্দি ও তদন্তে জানা যায়, মাদক ব্যবসার বিরোধ ও ক্ষোভের জের ধরে শাহ জাল সরকার ও সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা জনিকে হত্যা করে। ঘটনার দিন জনি ও তার বন্ধু সোহাগ ও রানা খান ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রি করছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। জনির বন্ধুরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেলেও আসামিরা জনিকে ধরে এলোপাতাড়ি মারপিট করে হত্যার পর মৃতদেহ পুকুরে ফেলে দেয়।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ বলেন, “ঘটনার পরপরই পিবিআই ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি স্বউদ্যোগে অধিগ্রহণ করি। দেড় বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ঘটনায় জড়িত ২ আসামিকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এই গ্রেফতারে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
মন্তব্য করুন