সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান আমদানি করের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সংগঠকরা। এ অবস্থায় সোলার প্রযুক্তির প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মত দেন তারা।
সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের দাবিতে ২৫ মে সোমবার
সুনামগঞ্জে হাউস, ফেড সুনামগঞ্জ, ক্লিন, বিডব্লিউজিএডি ছাদের উপর এক ব্যতিক্রমী মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ও ভর্তুকি বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আবারও প্রায় ২১ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, যা সাধারণ জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
বক্তারা আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে রুফটপ সোলার হতে পারে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। কিন্তু উচ্চ আমদানি শুল্ক ও করের কারণে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবার সোলার প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।
তারা অবিলম্বে সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সকল যন্ত্রাংশের ওপর থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, কর অবকাশ ও সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দেশের নবায়ন যোগ্য জ্বালানি প্রসারে ভবনসমুহের ছাদের সম্ভাবনা তুলে ধরতে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের একটি ভবনের ছাদে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ, ফেড সুনামগঞ্জ এর সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন, সহ সভাপতি নুরুল হাসান আতাহের, সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা, প্রভাষক ফজলুল করিম সাঈদ, তৃষ্ণা আক্তার রুশনা, আমিনুল হক, রিনা বেগম, কর্ণ বাবু দাস, তুর্য দাস, ইমরান হোসেন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন