ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলের একটি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ রোববার নিজেদের হাতে নিয়েছে কয়েকশ’ বন্দি। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগ এনে জেলের পরিচালককে অপসারণের দাবি জানিয়েছে তারা।
এএফপির এক প্রতিবেদক জানান, বারিনাস শহরের ওই কারাগারে বন্দিরা ছাদে জড়ো হয়ে ‘আর নির্যাতন নয়! আর নির্যাতন নয়!’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় জ্বলন্ত তোশক ও চাদর থেকে ধোঁয়ার কু-লী উঠতে দেখা যায়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বন্দিরা ‘এসওএস’ এবং ‘তারা আমাদের ওপর নির্যাতন করছে’ লেখা ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করে।
ওই ঘটনার পর রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বারিনাস জুডিশিয়াল ডিটেনশন সেন্টারটি নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রে সজ্জিত সদস্যরা ঘিরে ফেলে।
এ সময় কারাগারের বাইরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় বন্দিদের স্বজনরা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ইয়েলিৎসা অ্যারোলো নামের এক নারী এএফপিকে জানান, গত ৮ মে থেকে তিনি তার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ভয়াবহভাবে মারধর করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে, ঠান্ডা পানি ঢালা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা হচ্ছে, এমনকি আগুন দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। আমরা জেলের পরিচালকের অপসারণ চাই।’
স্বজনদের দাবি, বেশ কয়েকজন বন্দি আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ভেনেজুয়েলান অবজারভেটরি অব প্রিজনস (ওভিপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ‘বারিনাস জুডিশিয়াল ডিটেনশন সেন্টারের প্রায় ১২শ’ পুরুষ ও ১শ’র বেশি নারী বন্দি ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।’
কারাগার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় বন্দিদের অভিযোগ উপেক্ষা করছে বলে ভেনেজুয়েলার প্রিজন অবজারভেটরি (ওভিপি) অভিযোগ করেছে।
সংস্থাটি জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্দিরা নির্যাতনের অভিযোগ জানালেও তাদের কথা শোনা হচ্ছে না; উল্টো তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
গত এপ্রিলে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪৪ মাইল) দূরে অবস্থিত কড়া-নিরাপত্তাসম্পন্ন ইয়ারে-৩ নামের কারাগারে দাঙ্গার সময় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকার।
২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশের প্রধান কারাগারগুলোতে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক অভিযানে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের জন্য তাকে ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন