ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রোববার ভোরে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনে হামলার জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরই এ হামলা চালানো হলো।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এএফপি’র সাংবাদিকরা জানান, ভোররাতজুড়ে কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান মিকোলা কালাশনিক বলেন, ‘আজ রাতে কিয়েভ অঞ্চল আবারও শত্রুপক্ষের ব্যাপক হামলার মুখে পড়েছে। হামলায় ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’
এএফপির প্রতিবেদকরা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সরকারি এলাকার কাছের একটি আবাসিক ভবন কেঁপে ওঠে।
শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি মেট্রো স্টেশনে বহু মানুষ আশ্রয় নেন।
শহর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার খবর জানানো হয়।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে, ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ ও কিয়েভে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস রাজধানীতে বড় ধরণের হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে। রাশিয়া জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের একটি এলাকায় প্রাণঘাতী হামলার জন্য দায়ীদের ‘শাস্তি’ দেওয়া হবে।
তাকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে লেখেন, ‘রাজধানী ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে।’
পরে তিনি জানান, বিমান হামলার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, শহরের প্রতিটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। একটি স্কুলে হামলার পর আগুন লাগে। আরেকটি হামলায় একটি ব্যবসা কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া লোকজন আটকা পড়েন।
ইউক্রেন আগে থেকেই বড় ধরণের হামলার আশঙ্কা করছিল। কারণ, দেশটির বাহিনী রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
মস্কোর দাবি, ওই হামলায় একটি কলেজের ছাত্রাবাসে আঘাত লাগে ও অন্তত ১৮ জন নিহত হন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চালানো ওই ড্রোন হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।
রাশিয়া জানায়, অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্কে এ হামলায় আরও ৪২ জন আহত হন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েন।
ইউক্রেন বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তাদের দাবি, স্টারোবিলস্ক এলাকায় অবস্থান নেওয়া রুশ ড্রোন ইউনিটে হামলা চালানো হয়েছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, এ হামলার জন্য দায়ীদের ‘অনিবার্য ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়া হবে।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন ‘কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির লক্ষণ’ দেখতে পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ‘বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে।
তবে প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে ওরেশনিক ব্যবহার করা হয়েছে।
একইভাবে মার্কিন দূতাবাসও জানায়, তারা এমন তথ্য পেয়েছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরণের বিমান হামলা হতে পারে।
ইউক্রেন নিয়মিত রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব আঘাত হানা হচ্ছে।
ছাত্রাবাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ছাত্রাবাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
মস্কো-সমর্থিত লুহানস্কের গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক প্রকাশিত হতাহতদের তালিকা অনুযায়ী, নিহত ও নিখোঁজদের বেশিরভাগই ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণী।
তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘অঞ্চল ও পুরো দেশ এই মানুষগুলোর ভাগ্য ও তাদের পরিবারের বেদনা ভাগ করে নিচ্ছে।’
জাতিসংঘ শুক্রবার বলেছে, ‘যেখানেই হোক, বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তবে ওই এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায়, তারা ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করতে পারেনি বলে জানানো হয়।
পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে স্টারোবিলস্ক শহরটির অবস্থান। ২০২২ সালে রুশ অভিযানের শুরুর দিকেই শহরটি দখল করে রাশিয়া।
মন্তব্য করুন