টানা বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
জেলার সবকটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। আজ সকাল থেকে রোদ উঠেছে। এতে স্বস্তি ফিরিছে কৃষকদের মনে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩.২৪ মিটারে নেমেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৮৫ মিটার, কমেছে ৮ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি কমে ২.৪৭ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি ১.৫৭ মিটার, কমেছে ৩ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯১ থেকে ৪২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
কৃষকেরা ডুবে যাওয়া ক্ষেত থেকে ধান উদ্ধার ও খলায় রাখা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাঝে মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত আবার শুরু হলে নদ-নদীর পানি পুনরায় বাড়তে পারে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে নতুন করে প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমির ধান পানি নিচে রয়েছে।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কৃষক। ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত হাওরে ৭১ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
মন্তব্য করুন