(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের শালহাটি সীমান্তে ধরধরা ব্রিজ থেকে পূর্বদিকে শাহিনুর ও শৈলেন চন্দ্রের জমি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)” এর মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা ছিল। খালটি পুনঃখনন ও সম্প্রসারণের ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে উপকার বয়ে আনবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আশরাফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা রোকনুজ্জামান, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা কাজী হাবিবুর রহমান, নাউতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধতার শিকার হতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিকাজে নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ইজিপিপি’র আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন