পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকট-যেমন বন উজাড়, মাটি ক্ষয়, খরা ও ভূমিধস নিরসনে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় ৮০ হাজার, খাগড়াছড়িতে ৮২ হাজার ২৫০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ১ লাখ ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘একটি শিশু একটি গাছ’ কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলায় ৫ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ২৫ হাজার চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটিতে ভূমিধস প্রতিরোধে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং বান্দরবানে কৃষি উন্নয়নের জন্য বাঁধ ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। পাশাপাশি মাটি ক্ষয় ও ভূমিধস রোধে তিন পার্বত্য জেলায় বাঁশ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধানে এডিবি ও জিওবি অর্থায়নে ‘জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন এবং জলাধার ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর আওতায় পার্বত্য অঞ্চলের ৯টি উপজেলায় পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীপেন দেওয়ান বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন উজাড়, মাটি ক্ষয়, খরা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন