নীলফামারী, প্রতিনিধি:
জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী জেলা প্রশাসন ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে ডিমলা উপজেলায় শুরু হয়েছে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নিবন্ধিত ও বৈধ ২ হাজার ৫০০ জন মোটরসাইকেল চালক এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। শুধুমাত্র উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং এখানে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদন করার সুযোগ পান।
ফুয়েল কার্ডধারীরা জেলার যেকোনো ফিলিং স্টেশন থেকে নির্ধারিত মাসিক পরিমাণ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে তেলের সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নির্ধারণ করা হয়। পরে সংগৃহীত তথ্য তিন সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ২ হাজার ৫০০ বৈধ মোটরসাইকেল চালককে তালিকাভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, তেলের মজুত ও সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুতের প্রবণতা রোধ করতেই এই ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তদারকি জোরদারে পৃথক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে তদারকি কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন তেলের অপচয় ও অনিয়ম কমবে, অন্যদিকে পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে চালকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে আরও ফুয়েল কার্ড ইস্যু করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ও টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন