ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। তবে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘সহিংস দাঙ্গা’ চলাকালে একজন সেনা সদস্য গুলি চালায়।
মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানায়, নিহত আলি মাজেদ হামাদনে (২৩)। রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে দেইর জারির গ্রামে অভিযানের সময় বসতি স্থাপনকারীরা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। মন্ত্রণালয় জানায়, ‘গুরুতর অবস্থায় তাকে প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ।’ পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রামাল্লাহ থেকে বার্তাসংস্থা
এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
ওয়াফা জানায়, ‘ইসরাইলি বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা দেইর জারির গ্রামের পশ্চিম দিক দিয়ে ঢুকে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’
শনিবার রাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দেইর জারিরে এক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এলাকায় ইসরাইলি বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের খবর পেয়ে সেনারা সেখানে যায়।
সামরিক বাহিনী জানায়, ‘সেনারা পৌঁছালে পরিস্থিতি সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। সেখানে সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।’ একজন রিজার্ভ সেনা প্রথমে আকাশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। পরে ‘এক হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’
সেনাবাহিনী আরো জানায়, ‘আহত ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’ ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের উপর প্রাণঘাতী হামলাও বেড়েছে।
শনিবারের ঘটনার আগে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এএফপি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দিয়েছে।
বছরের পর বছর ধরেই ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলা চলছে।
মন্তব্য করুন