নুরুল আমিন, লালমোহন:
ভোলার লালমোহন উপজেলায় জমি বিরোধের জের ধরে ৪জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের কালমা গ্রামে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বয়াতি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন লুৎফর বয়াতি, আলামিন বয়াতি, ফারুক বয়াতি ও তাদের পিতা আব্দুর রহমান বয়াতি।
আহত ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, লুৎফর বয়াতি ও লালু বয়াতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ফারুক ও আলামিন বয়াতি তাদের পুকুরে মাছ ধরতে গেলে লালু বয়াতি, বেলাল, খোরশেদ, বশার, ফরিদা, নুর জাহান, বাবুল শরিফসহ আরো লোকজন নিয়ে হামলা করে। আলামিন, ফারুক ও আব্দুর রহমান বয়াতিকে বেদম পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে গরুর বেপারী লুৎফর বয়াতিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। আহতদের লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ৪ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম আলামিন, ফারুক ও আব্দুর রহমান বয়াতিকে ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আহত লুৎফর বয়াতি জানান, আমি গরু কিনতে রওনা দিছি। এমন সময় হৈচৈ শুনে সেদিকে যাই। আমাকে ব্যাপক মারধর করে। উলঙ্গ করে ফেলে। আমার সাথে থাকা দুই লক্ষ টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়।
লুৎফর বয়াতির স্ত্রী রহিমা জানান, আমি হৈচৈ শুনে সেদিকে যাই। দেখি আমার স্বামীকে মারতেছে। ওনার থেকে টাকা ও আংটি নিয়ে গেছে। ফারুক, আলামিন ও আব্দুর রহমান বয়াতিকে কুপিয়ে জখম করেছে। আমরা চিৎকার দিলে লোকজন এসে উদ্ধার করে।
ঘটনার সময় সালিশ পক্ষের বাদশু সর্দার ও আবেদ আলী সেখানে ছিল বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায় বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় কথা বলার জন্য অভিযুক্ত বশার বয়াতির মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান বিষয়টি সালিশ ফয়সালাধীন রয়েছে। শনিবার সালিশ বসার কথা। এরমধ্যে শুক্রবার তারা মাছ ধরার জন্য গেলে সেখানে মারামারি হয়। আমাদের পক্ষের লোকও আহত হয়েছে।
মন্তব্য করুন