বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে সুন্দর দেখার এক কৃত্রিম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করতে মানুষ প্লাস্টিক সার্জারি লিপ ফিলার বোটক্স কিংবা ভ্রু প্লাকের মতো কৃত্রিম পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে কোনো যৌক্তিক বা চিকিৎসার কারণ ছাড়া শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য শরীরের জন্মগত গঠন পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ হারাম।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১৯ তম আয়াতে শয়তানের একটি প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে শয়তান আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে বলে “আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।” এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া কেবল নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য সার্জারি বা কৃত্রিম পরিবর্তন করা শয়তানের প্ররোচনা এবং হারাম কাজ।
সহিহ মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন ওই সব নারীকে যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ভ্রু উপড়ে ফেলে দাঁত ফাঁকা করে এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।
তবে ইসলাম অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ধর্ম। যদি কোনো ব্যক্তি জন্মগতভাবে মারাত্মক শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে অথবা আগুনে পুড়ে বা দুর্ঘটনার কারণে শরীরের কোনো অংশ বিকৃত হয়ে যায় তবে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি বা প্লাস্টিক সার্জারি করা সম্পূর্ণ জায়েজ। সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিজি শরিফে বর্ণিত আছে সাহাবি আরফাজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাক যুদ্ধে কেটে গেলে নবীজির অনুমতিক্রমে তিনি একটি সোনার নাক তৈরি করে লাগিয়েছিলেন।
সুতরাং চিকিৎসার প্রয়োজনে সার্জারি বৈধ কিন্তু আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক রূপ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে কেবল লোকদেখানো সৌন্দর্যের মোহে পড়ে আল্লাহর সৃষ্টিতে হস্তক্ষেপ করা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক গোনাহের কাজ। ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহ মানুষকে যে রূপে সৃষ্টি করেছেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং বাহ্যিক রূপের চেয়ে আত্মিক পরিশুদ্ধির দিকে বেশি নজর দেওয়া।
মন্তব্য করুন