মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার বলেছেন, তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, ভূপাতিত এক মার্কিন বিমানসেনাকে খুঁজে বের করতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হামলার পর লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর তেহরান নতুন হামলার ঘোষণা দেয় এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায় যে, তারা ইয়েমেন থেকে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে।
ইরানের বিপ্লবী বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল পথের ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে, বিশেষ করে যেগুলোকে তারা মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করে সেগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের পেট্রোকেমিক্যাল জোনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামো, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এক মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়, যা এমন এক প্রতিশোধমূলক হামলার জন্ম দেয় যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতকে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে গত ২৬ মার্চ জারি করা এক সর্তক বার্তার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম?
তিনি বলেন, ‘সময় শেষ হয়ে আসছে।’ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে একে অসহায়, ভারসাম্যহীন ও নির্বোধ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের ভাষা অনুকরণ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে যাবে।’
মন্তব্য করুন