রুপালি পর্দার ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে তারকাদেরও যে কতটা কঠিন
বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তা হয়তো আমরা সব সময় জানতে পারি না। বলিউড তারকা বরুণ ধাওয়ান সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে মেয়ে লারাকে সব সময় লাইমলাইটের আড়ালেই রেখেছেন। তবে এবার বাবা হিসেবে এক কঠিন ও আবেগপ্রবণ অভিজ্ঞতার কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন এই অভিনেতা। জানালেন, ছোট্ট লারা এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ঠিকমতো হাঁটতে বা
দৌড়াতে পারত না।
২০২৪ সালের ৩ জুন বরুণ ও তাঁর স্ত্রী নাতাশা দালালের কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান লারা। বাবা হওয়ার পর থেকেই বরুণের জীবনটা যেন একেবারে বদলে যায়। মেয়েকে নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কোনো কথাই বলতেন না তিনি। তবে সম্প্রতি জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বি আ ম্যান, ইয়ার’-এ এসে প্রথমবারের মতো মেয়ের এই শারীরিক জটিলতা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, লারার বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখন তার ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অব দ্য হিপ’ (DDH) নামের একটি রোগ ধরা পড়ে।
কী এই রোগ? লারার এই শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বরুণ জানান, এই রোগে শিশুর হিপ জয়েন্ট তার সঠিক জায়গা থেকে সরে যায় বা ঠিকভাবে বসে না। বরুণের ভাষায়, ‘এর ফলে একটি পা অন্য পায়ের তুলনায় ছোট বা বড় হয়ে যেতে পারে। হাঁটার ভঙ্গি বেঁকে যায়। শিশু ঠিকভাবে হাঁটতে বা দৌড়াতে পারে না।’ অভিনেতা আরও জানান, এই রোগের কারণে অল্প বয়সেই আর্থ্রাইটিস ও স্লিপ ডিস্কের মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।বিদেশে এই রোগের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকলেও ভারতে তা সব জায়গায় সুলভ নয়। তবে ভাগ্যক্রমে ভালো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে লারাকে কোনো কাটাছেঁড়া বা সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোট্ট লারার হিপ জয়েন্ট ঠিক জায়গায় বসানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এরপরের সময়টা ছিল মা-বাবার জন্য চরম উদ্বেগের।
সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বরুণ বলেন, ‘প্রক্রিয়াটির পর লারাকে স্পাইকা কাস্ট নামের একধরনের বিশেষ প্লাস্টার পরতে হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস ওর পুরো শরীরটা প্লাস্টারে বাঁধা ছিল। সময়টা আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। ওকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছিল, আর যখন সে চোখ মেলে তাকাল, দেখল তার পুরো শরীর প্লাস্টারে ঢাকা!’
স্বস্তির খবর হলো, সেই দুঃসময় এখন কেটেছে। লারার শরীরের প্লাস্টার খোলা হয়েছে এবং সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বাবা হিসেবে নিজের এই অসহায়ত্ব এবং ফিরে আসার পুরো জার্নি নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার পরিকল্পনা করছেন বরুণ।
সবশেষে, সব মা-বাবার উদ্দেশে একটি সচেতনতামূলক বার্তাও দিয়েছেন এই অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো সহানুভূতি পাওয়ার আশায় নয়; বরং ভারতে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই নিজের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্পটি সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর অনুরোধ, কোনো মা-বাবাই যেন সন্তানদের এমন সমস্যাকে অবহেলা না করেন, কারণ সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মন্তব্য করুন