আমরা অনেকেই মনে করি ধূমপান করি না, মদ্যপান করি না, ওজনও স্বাভাবিক তাহলে হৃদরোগের ঝুঁকি নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, একেবারে “স্বাস্থ্যকর” জীবনযাপন করেও অনেকেই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাহলে প্রশ্ন সমস্যাটা কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাইরের সুস্থতা দেখলেই হবে না, শরীরের ভেতরের অদৃশ্য কিছু কারণও হৃদরোগের বড় ট্রিগার হতে পারে।
জেনেটিক কারণ: পরিবার থেকেই ঝুঁকি
হৃদ্রোগের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে জেনেটিক বা বংশগত কারণ। পরিবারে যদি কম বয়সে হার্টের সমস্যা থাকার ইতিহাস থাকে, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। যেমন কিছু মানুষের শরীরে জন্মগতভাবে কোলেস্টেরল বেশি থাকে বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
স্ট্রেস এখন আধুনিক জীবনের অংশ। কিন্তু এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা সরাসরি হৃদ্যন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। চাপের কারণে রক্তচাপ বাড়ে, হার্টবিট বেড়ে যায়, শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয় যা ধীরে ধীরে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
পরিবেশ দূষণ বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র দূষিত কণা আমাদের রক্তে ঢুকে পড়ে এবং রক্তনালীতে প্রদাহ তৈরি করে। এর ফলে ধীরে ধীরে রক্তনালী শক্ত হয়ে যায় (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস), যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় যদি আপনি ধূমপান না-ও করেন।
অজানা বা লুকানো রোগ
অনেক সময় শরীরে এমন কিছু সমস্যা থাকে, যা আমরা বুঝতেই পারি না। যেমন:
ওজন ঠিক থাকলেই যে খাবার ঠিক আছে এটা সব সময় সত্য নয়। অতিরিক্ত চিনি, প্রসেসড ফুড, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এসব খাবার শরীরে মেটাবলিক সমস্যা ও প্রদাহ বাড়ায়, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে
হৃদরোগ এখন আর শুধু বয়স্ক বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মানুষের সমস্যা নয়। “আমি তো সব ঠিকই করছি” এই ধারণা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কারণ, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জেনেটিক, মানসিক ও পরিবেশগত কারণগুলোই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই শুধু বাহ্যিকভাবে সুস্থ থাকাই যথেষ্ট নয় নিজের শরীরকে গভীরভাবে জানা, নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সচেতন থাকা এই তিনটিই হতে পারে হৃদ্রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন