লিড নিউজ ২৪ স্পেশাল ডেস্ক:
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা ও গৃহবন্দিত্বের সুযোগ দেওয়ার জেরে ডিএপি (DAP) দলের মহাসচিব অ্যান্থনি লোক-এর পরিবহন মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তাবকে তাঁর ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন উমনো (UMNO) দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালেদ নরডিন।
গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজা ইয়াং ডি-পারতুয়ান আগোং-এর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে নাজিব রাজাককে এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা প্রদান করা হয়। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভার পর অ্যান্থনি লোক পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি জানান, মালয়েশিয়ার ঐকমত্যের সরকারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিএপির অন্যান্য মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন।
এ বিষয়ে জোহরের কোটা টিঙ্গিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদ নরডিন বলেন, “উমনোর দৃষ্টিকোণ থেকে, পদত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ তাঁর (লোক-এর) নিজস্ব ব্যাপার। তিনি পদত্যাগ করবেন কি করবেন না, সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খালেদ আরও জোর দিয়ে বলেন, অ্যান্থনি লোক-এর পদত্যাগের প্রস্তাবের সাথে নাজিব রাজাককে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করা এবং তাঁর অবশিষ্ট সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে রাজার সাংবিধানিক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
উমনো রাজার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাঁর এখতিয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলেও জানান খালেদ।
অন্যদিকে, অ্যান্থনি লোক তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাবের বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ডিএপি রাজার ক্ষমা করার ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও নাজিবের শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার বিষয়ে দলটির নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। দলের জন্য এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া বেশ কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাজিব রাজাকের বর্তমান অবস্থা:
নাজিব রাজাককে গত শুক্রবার শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করা হয়েছে। এই শর্ত অনুযায়ী, তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর অবশিষ্ট সাজা নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে পারবেন। তবে এর জন্য তাঁকে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা দিতে হবে।
এসআরসি ইন্টারন্যাশনালের ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত আত্মসাতের দায়ে ২০২২ সালের আগস্টে ফেডারেল কোর্ট নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপর থেকে তিনি কাজাং কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালে পার্ডন বোর্ড তাঁর সাজা ও জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। গৃহবন্দিত্বের শর্ত পূরণের মাধ্যমে তাঁর কারাবাসের মেয়াদ আরও শিথিল হলো।
মন্তব্য করুন