লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
জ্বালানি, বিদ্যুৎ-সংকটসহ নানা জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ ও ধারাবাহিক কর্মসূচির দিকে সতর্ক নজর রাখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তবে এখনই এসব কর্মসূচিকে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না দলটির নীতিনির্ধারকেরা। তারা মনে করেন, রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করা এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
মাঠে সরব জামায়াত, নজর রাখছে বিএনপি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের সমাধান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে বেশ সক্রিয় জামায়াত ও তাদের শরিকেরা। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করেছে তারা। আজ রংপুর অভিমুখে লংমার্চ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে জোটটির।
বিরোধীদের এসব তৎপরতার বিপরীতে বিএনপির রাজপথে কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এ বিষয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে, আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি।’
সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের বিএনপির এই নীরবতাকে অবশ্য ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি (সক্ষমতা) নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’
এর আগে লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে।’ ফেনীর মহিপালের পথসভায় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
সংসদে কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীদের এসব কর্মসূচির বিষয়ে রাজপথের বদলে সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমেই জবাব দিচ্ছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সাংগঠনিক স্থবিরতা
টানা প্রায় দুই দশক রাজপথের আন্দোলনে থাকা বিএনপি বর্তমানে সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত থাকায় মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকলেও মাঠ গোছানোর বড় কোনো দলীয় কর্মসূচি এখনো দৃশ্যমান নয়।
তবে দলের একটি অংশ মনে করে, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা যদি ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকে, তবে তা একেবারেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে জনগণের কাছে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন