আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লিড নিউজ ২৪ঃ
কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাককে গৃহবন্দি রাখার বিষয়ে ক্ষমা বোর্ডের (Pardons Board) কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা লিখিত নির্দেশনা এখনও পায়নি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কারা অধিদপ্তর। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য স্পষ্ট করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইন বিষয়ক বিভাগ—যা ক্ষমা বোর্ডের সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করে—তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন এখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছায়নি। ফলে বর্তমানে নাজিব রাজাক প্রচলিত নিয়মে কারাগারেই তার সাজা ভোগ করছেন।
চিঠির অপেক্ষায় মন্ত্রণালয় ও কারা বিভাগ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাইফুদ্দিন নাসুশন বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছি। চিঠিটি হাতে পেলে পরিষ্কার হওয়া যাবে বোর্ড নাজিব রাজাকের গৃহবন্দিত্বের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাসভবন বা স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে কি না, নাকি কারা বিভাগকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।”তিনি আরও স্পষ্ট করেন, আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত নাজিব রাজাককে গৃহবন্দি হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া ও সরকারি নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার পরই কারা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
নেপথ্যের ঘটনা ও রাজনৈতিক পটভূমি উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার বহুল আলোচিত ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (১এমডিবি) অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় দুর্নীতির দায়ে ২০২২ সালে নাজিব রাজাককে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুর দিকে ক্ষমা বোর্ড তার সাজার মেয়াদ অর্ধেক কমিয়ে ৬ বছর করে এবং জরিমানার পরিমাণও হ্রাস করে। এরপর থেকেই নাজিব রাজাকের আইনজীবীরা দাবি করে আসছিলেন যে, তৎকালীন রাজার পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আদেশ বা ‘অ্যাডেন্ডাম’ জারি করা হয়েছিল, যেখানে নাজিবকে তার অবশিষ্ট সাজা কারাগারে না রেখে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি হিসেবে কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই আদেশ কার্যকরের দাবিতে নাজিবের পক্ষ থেকে আদালতে আইনি লড়াইও পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন তৈরি হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন—সরকারের কাছে এখনও এই সংক্রান্ত কোনো কার্যকর লিখিত আদেশ আসেনি।
মন্তব্য করুন