নিজস্ব প্রতিবেদক, লিড নিউজ ২৪
ঢাকা:
বিরোধী দলের আট দফা দাবি অবিলম্বে মেনে না নিলে তা যেকোনো মুহূর্তে এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেওয়া উচিত; অন্যথায় কোনো চোখরাঙানিতে কাজ হবে না এবং বিরোধী দল কোনো কিছুরই পরোয়া করবে না।
শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১১–দলীয় ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের আট দফা প্রয়োজনে নয় বা ১০ দফায়ও পরিণত হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটি এক দফায় পরিণত হতে পারে। আর আট দফা এক দফায় রূপ নিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।’
চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের অভাবনীয় সফলতায় সরকারসংশ্লিষ্ট অনেকের ‘মাথা গরম’ হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এর কিছু লক্ষণ দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেয়।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়; ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়েই ১১-দলীয় জোট মাঠে নেমেছে এবং দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবোলতাবোল বকছেন। তবে বিরোধী দলের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
আট দফায় যা আছে:
গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ৬ দফা দাবি জানিয়েছিল ১১-দলীয় জোট। এবারের রংপুরমুখী কর্মসূচিতে এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ এবং ‘দুর্নীতি-দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের’ দাবি যুক্ত হয়ে তা আট দফায় উন্নীত হয়েছে।
১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলোকে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিক এই কর্মসূচি শেষে ঢাকায় একটি বিশাল সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে জোটের।
মন্তব্য করুন