লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে ফের একবার চরম নাটকীয়তা। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের আলোচিত নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনকালীন একটি পুরোনো হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যখন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রার্থী সঞ্ছিতা প্রধান দে হঠাৎ করেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপরই মমতা ঘোষণা করেন যে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদে তাদের শিবির থেকে আর কোনো বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হবে না; বরং তারা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানাবেন।
কিন্তু এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় ১৯ বছর আগের পুরনো একটি মামলায় তাকে এই হঠাৎ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বিজেপির ‘পুরোনো ফর্মুলা’ বলে আক্রমণ করেছেন। তার প্রশ্ন, এতদিন কোথায় ছিল প্রশাসন? ঠিক যেদিন কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করা হলো, সেদিনই কেন এই পুরোনো মামলা চাগিয়ে তোলা হলো? একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করার চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একাংশ।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, যতই দমনপীড়ন চালানো হোক না কেন, বিরোধী জোটকে দমানো যাবে না। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রার্থীর গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক মারপ্যাচে ভোটযুদ্ধ এখন চরম রূপ নিয়েছে।
মন্তব্য করুন