ভূমিকম্পের তথ্য জালিয়াতির কেলেঙ্কারির জেরে জাপানের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট কিংগো হায়াশি পদত্যাগ করবেন। সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দুটি রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরগুলো গলে যাওয়ার ১৫ বছর পর জাপান আবারও পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মধ্য জাপানে অবস্থিত চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ারের হামাওকা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্ভাব্য ‘মেগাকোয়েক’-এর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে। কেন্দ্রটির দুটি রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই চলছে।
তবে গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম করে দেখিয়ে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তথ্য জমা দিয়েছিল।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে ও অন্যান্য স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট কিংগো হায়াশি এবং চেয়ারম্যান সাতোরু কাটসুনো পদত্যাগ করবেন।
প্রতিষ্ঠানটি দিনের পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন করবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার প্রকাশিত একটি স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের ২৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনরায় চালুর পর্যালোচনা নিয়ে বিলম্বের কারণে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ‘তিরস্কার’ কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এটি ছিল অনিয়মের পেছনে ভূমিকা রাখা কারণগুলোর একটি।
ব্যবসায়িক দৈনিক নিক্কেই জানায়, প্রতিষ্ঠানটি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার জন্য করা আবেদন প্রত্যাহার করবে।
ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর জাপান পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ব্যাপক নির্ভরতা কমাতে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানির চাহিদা পূরণে সম্পদ-স্বল্প দেশটি এখন আবার পরমাণু শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া চলতি বছরের শুরুতে আবারও চালু হয়েছে।
পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশার জন্য সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ভূকম্পনজনিত ভূমি কম্পনের মাত্রার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি চুবুর ১ হাজার ২০০ গ্যালের হিসাব অনুমোদন করে। ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপে ব্যবহৃত ত্বরণের একটি একক হলো গ্যাল।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে এনআরএ হামাওকা কেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যালোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করে।
কেন্দ্রটি শিজুওকা প্রিফেকচারের ওমায়েজাকিতে অবস্থিত। এটি একটি ভূকম্পনপ্রবণ চ্যুতিরেখার কাছে অবস্থিত, যেখানে আগামী কয়েক বছর বা কয়েক দশকের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে নানকাই ট্রাফ্ট নামে পরিচিত জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ওই এলাকায় সম্ভাব্য বিশাল ভূমিকম্প নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশেষ সতর্কতা জারি করে। তবে এক সপ্তাহ পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
মন্তব্য করুন