সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪:
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের একটি প্রতিবেদন ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) গত চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এরপরই নেট দুনিয়া ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়—তবে কি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আর মাত্র ১৪ দিন চলার মতো তেল অবশিষ্ট আছে?
১৪ দিনের হিসাবটি কীভাবে এল?
পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় সংরক্ষিত এসপিআরে মূলত অপরিশোধিত তেল মজুত থাকে, যা চরম জরুরি অবস্থার জন্য বরাদ্দ।
বর্তমানে এই রিজার্ভ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে ঠিকই, কিন্তু ‘১৪ দিন পর তেল ফুরিয়ে যাবে’—এমন দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। মূলত একটি গাণিতিক হিসাব থেকে এই গুজব ছড়িয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে তার সমস্ত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করতে থাকে, তবে এই মজুত দিয়ে আনুমানিক ১৪ দিন চলা সম্ভব।
বাস্তব পরিস্থিতি আসলে কী?
প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহের একমাত্র উৎস তাদের এই কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত নয়। দেশটির নিজস্ব শক্তিশালী জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ। নিয়মিত উৎপাদনের পাশাপাশি তারা অন্যান্য দেশ থেকেও তেল আমদানি করে থাকে।
১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের পর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে দামের ভারসাম্য ধরে রাখতে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসন এই রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ে, যার ফলেই মজুত আজ ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে।
সব মিলিয়ে, কৌশলগত মজুত তলানিতে নেমে যাওয়াটা মার্কিন জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হলেও, এখনই তাদের তেলের ঘাটতিতে পড়ার বা ১৪ দিন পর দেশ অচল হয়ে যাওয়ার কোনো বাস্তব ঝুঁকি নেই।
মন্তব্য করুন