১১-দলীয় ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। তবে ভোট আলাদা হলেও রাজনৈতিক জোট অটুট রাখার ঘোষণা দলগুলোর।
* ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলাদা প্রার্থী দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে।
* ঢাকা উত্তর সিটিতে জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) প্রাথমিকভাবে মনোনীত।
* এনসিপি থেকে উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম রয়েছে আলোচনায়।
* নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জনস্বার্থ ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে।
সায়মন খান (Lead News 24) ঢাকা:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের ব্যানারে একসঙ্গে লড়লেও স্থানীয় নির্বাচনে একে অপরকে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দল দুটির শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটিসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে তারা আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তাই জোটগত ভোট ভাগাভাগির বাধ্যবাধকতা নেই। প্রার্থীর নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা এবং যোগ্যতাই এখানে প্রধান নিয়ামক হবে—এই হিসাব কষেই দলগুলো এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে।
কারা হচ্ছেন দুই সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী?
জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং খুব দ্রুতই কেন্দ্রীয়ভাবে সব স্তরের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকেও রয়েছে শক্ত অবস্থান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন। যদিও এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেনি, তবে মাঠপর্যায়ে তাদের প্রস্তুতি দৃশ্যমান।
অন্যান্য শরিকদের অবস্থান কী?
১১-দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শরিক দলগুলোও বসে নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকার দুই সিটিতে চারজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া এবি পার্টির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন সিটিতে প্রার্থীরা অংশ নেবেন। তবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; দলটির নীতিনির্ধারকরা বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।
ভোট আলাদা, কর্মসূচি একসঙ্গে:
নির্বাচনী মাঠে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা আসলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দলগুলো। ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা বলছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে তারা আগের মতো একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোটগত সমঝোতা না থাকলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অটুট থাকবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা যদি নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছান, তবে কেন্দ্র থেকে তাতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে ১১-দলীয় ঐক্য এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই তার তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।
মন্তব্য করুন