ডাক বিভাগকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘মেইল প্রসেসিং এন্ড লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চিলিং চেম্বার সুবিধা সংবলিত ১৪টি মেইল প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় ডাক পরিবহন ব্যবস্থায় পচনশীল দ্রব্য পরিবহনের জন্য এক হাজার থার্মাল বক্স সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত আধুনিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার (ডিএমএস: ডমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার) ব্যবহার করে গ্রাহকরা ঘরে বসেই চিঠিপত্র, পার্সেল ও ডিজিটাল কমার্স পণ্য অনলাইনে ট্রেস ও ট্র্যাক করতে পারবেন। মেইল প্রসেসিং সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার (ডিএমএস)-এর আপগ্রেডেশনের লক্ষ্যে ‘মেইল প্রসেসিং এন্ড লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের সমর্থনে টেকসইকরণ’ শীর্ষক নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ডাক সেবার মানোন্নয়ন ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ডাকঘরসমূহের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ডাক অধিদপ্তর কর্তৃক সম্প্রতি বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনস্থ জরাজীর্ণ ডাকঘরসমূহের নির্মাণ ও পুনর্বাসন-২য় পর্যায় (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির মোট ২৫৯টি ডাকঘর ভবনের নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ বা সম্প্রসারণ, মেরামত, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ এবং চলমান ডাক অধিদপ্তরের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৩৯টি ডাকঘর ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ডাকসেবাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ডাক বিভাগের সকল কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের জন্য অটোমেটেড মেইল প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ সমীক্ষা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ডাক বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে ‘ডাক সেবার ডিজিটাল রূপান্তর ও আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক নামক নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ডাক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং গ্রাহকদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কেলের বিভিন্ন ডাকঘরের সীমানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করার নিমিত্তে ‘চট্টগ্রাম পোস্টাল সার্কেল-এর অধীন অফিসমূহের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ নামক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি অনুমোদন সাপেক্ষ। তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে ডাকঘরসমূহের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও গ্রাহক সেবা আরও নিরাপদ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ডাক অধিদপ্তর কর্তৃক ‘ডাক বিভাগের অধীনস্থ পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাকঘরসমূহের পুনঃনির্মাণ’’ নামে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন