সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪:
অনুমোদিত মদের দোকান বা বারের ঠিকানা পরিবর্তন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে চাইলেই কোনো বারের স্থান পরিবর্তন করা যাবে না। বিশেষ করে যে থানা এলাকার জন্য বারের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে, কোনো অবস্থাতেই সেই থানার বাইরে অন্য কোনো এলাকায় তা স্থানান্তর করা যাবে না।
বার স্থানান্তরে অবৈধ প্রক্রিয়া রোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘বার লাইসেন্সের ঠিকানা পরিবর্তন বা স্থানান্তর নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই নীতিমালা জারির বিষয়টি প্রকাশ করেছে।
কখন ও কেন বারের ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে?
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল তিনটি বিশেষ কারণে বারের লাইসেন্স স্থানান্তরের আবেদন বিবেচনা করা হবে:
১. বাড়ির মালিক চুক্তির মেয়াদ না বাড়ালে বা যৌক্তিক কারণে ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে চাইলে।
২. স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা অন্য কোনো স্পর্শকাতর কারণে স্থানান্তর জরুরি হলে।
৩. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকলে।
স্থানান্তরের কঠোর শর্তাবলি:
নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, লাইসেন্স স্থানান্তরের অনুমোদন পেলেও সেটি একই থানার আওতাধীন অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে সরাতে হবে। থানার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া, নতুন লাইসেন্স পাওয়ার বা একবার ঠিকানা পরিবর্তনের পর অন্তত তিন বছরের মধ্যে নতুন করে স্থানান্তরের কোনো আবেদন করা যাবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের দূরত্ব:
নতুন নীতিমালায় দূরত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকায় ১০০ মিটার এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল থাকলে সেখানে বার স্থাপন করা যাবে না। এমনকি যেখানে আগে থেকেই একটি বার রয়েছে, তার নির্দিষ্ট সীমানার (মেট্রো এলাকায় ১০০ মিটার এবং অন্য এলাকায় ৫০০ মিটার) ভেতরে নতুন করে কোনো বার স্থানান্তর করা যাবে না।
তবে, বারের লাইসেন্স পাওয়ার পর যদি ওই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে নতুন করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, তবেই শুধু ওই থানার অন্য কোনো স্থানে বারটি স্থানান্তরের সুযোগ পাওয়া যাবে।
আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া:
বারের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের ফ্লোর প্ল্যান, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, বাড়ির মালিকের অনাপত্তিপত্র এবং নির্দিষ্ট সীমানার ভেতর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদ-মন্দির নেই—এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
স্থানান্তরের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর পুরোনো ঠিকানায় বারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে ডিএনসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এরপর অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শন টিম নতুন জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। তাদের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল নতুন ঠিকানায় বারের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
নীতিমালায় কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব নিয়মের কোনোটি লঙ্ঘন করে বারের স্থানান্তর করা হলে ওই বারের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন