মোঃ মনির মন্ডল, সাভারঃ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়ার একটি তৈরী পোশাক কারখানায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন ও বিস্ফোরণের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শিশু সহ অন্তত ৪০ জন। অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এরই মধ্যে ৪ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকেই আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে ফায়ারসার্ভিস।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জিরাবো মডার্ণ ফায়ারসার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো: সাহাবুদ্দিন।
এরআগে, রোববার (২০ই সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা দাদা মার্কেট এলাকার প্রীতি গ্রুপের এস স্যুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় নিহতরা হলেন, গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার মোছা: জয়নব বেগম (৫৫), বুলবুল। এছাড়া বাকী ৫ জনের বিস্তারিত নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, নিটিং সেকশনের হাফিজুল খান, ফিনিশিং সেকশনের সোনিয়া, ক্লিনার রেহেনা, আনসার সদস্য মাসুদ রানা, গাড়ি চালক সুলতান, শিশু ইব্রাহিম, শিবেন হাওলাদার, ফরিদ ইসলাম, নূর ইসলাম, সুজন, নজরুল, সাইফুলবিসলাম, জাহিদুল, ইসরাফিল, ববিতা, লিমন, সামিউল, রেহেনা এবং রাসেল সিকদার সহ অন্তত ৪০ জন। এদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নূর ইসলাম, সুজন ও নজরুলকে ঢামেকে রেফার্ড করা হয়েছে। আহতদের আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে
আহতদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে থাকি। কিন্তু এরপরেও আমরা অনেক আঘাত পাই। দগ্ধ হই। আমাদের অনেকের হাত ভেঙ্গে গেছে, পা ভেঙ্গে গেছে, অনেকের পুড়ে গেছে। এছাড়া বিস্ফোরণের ধাক্কায় পাশের রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, বিস্ফোরণের পরপরই পাশের একটি কাপড়ের দোকানের ভেতর সিলিন্ডার উড়ে এসে জয়নব বেগম নামের এক নারীর উপর পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই ওই নারী দোকানদার নিহত হন। এছাড়া লড়ি থেকে দদ্ধ অবস্থায় আরো ৫জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায় আরো একজন সহ মোট সাতজন।
তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্যটি নিশ্চিত করে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুল জামান সভাপতি এবং চার সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি। এখানে সভাপতি উনি। এরপরে সদস্য সচিব থাকবেন আমাদের সাভার এলাকার জোন কমান্ডার হাফিজুর রহমান। আর সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসার বলতে আমি ও সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর অলিয়ুর রহমান।
তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাইনি। কত দিন বা কিভাবে হবে এটি পরে জানাতে পারবো বলেও যোগ করেন তিনি।
এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকেই আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে ফায়ারসার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, কারখানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলোর সারি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা লরিগুলোর মধ্যে ৪ নম্বর লরিটিতেই প্রথম বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, কারখানাটিতে তিতাস লাইনের গ্যাস থাকলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এসব লরিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো ছিল মেয়াদউত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ৪ নম্বর লরিটিতে হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাভার্ড ভ্যানের ওপরের অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ডাংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি অংশ ছিটকে গিয়ে পাশের ১০ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে ও সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ লাইনেও আগুন ছড়িয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
অ
মন্তব্য করুন