লিড নিউজ ২৪ স্পেশাল ডেস্ক:
ইন্দোরে কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাহুলের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি, যিনি মোদীর কণ্ঠস্বর এবং অঙ্গভঙ্গি নকল করে তাঁর কূটনৈতিক নীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। এই ঘটনার পর বিজেপি নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে?
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইন্দোরে আয়োজিত কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে একটি ছোট পারফরম্যান্স করেন কমেডিয়ান পুলকিত মণি। পারফরম্যান্সের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠস্বর, তাঁর বিখ্যাত হাসি, এবং তিনি যেভাবে কথা বলেন তা নকল করেন। এছাড়া মোদীর বিদেশ নীতি, তাঁর সদ্য প্রয়াত মা, এবং সম্প্রতি এক বয়স্ক মহিলাকে চেয়ার দেওয়ার ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা নিয়েও ব্যাঙ্গ করা হয়।
স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি মোদীর বিদেশ সফরের ধরনকে নকল করে “মাই ফ্রেন্ড” (আমার বন্ধু) বলে সম্বোধন করেন এবং প্রশ্ন করেন, “মাই ফ্রেন্ড, হাউ আর ইউ?” (আমার বন্ধু, তুমি কেমন আছ?)। এর জবাবে রাহুল গান্ধী হেসে উত্তর দেন, “আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন মোদীজি?” রাহুল গান্ধীর এমন হাসাহাসির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনায় মুখর হয় বিজেপি।
বিজেপি নেতাদের সমালোচনা
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন এই ঘটনাকে ‘কুরুচিকর আচরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এক বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে ‘উপহাস’ করা হয়েছে, আর রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশে হাসাহাসি করেছেন। এই ধরনের আচরণ কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী যেখানে বয়স্কদের সম্মান করেন, রাহুল গান্ধী সেখানে তাঁদের অপমান করা একটি ঘটনায় হাসাহাসি করেছেন।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং নিন্দনীয়। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের আচরণ দেশের মায়েদের অপমান করে এবং এর জন্য কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “মায়ের মতো একজন মানুষকে রাজনীতির বিষয়বস্তু বানানো কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন প্রসঙ্গ
সি আর কেশবন তাঁর মন্তব্যে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর দাবি, রাহুলের এমন “বিদ্বেষের রাজনীতি”র কারণেই তরুণ প্রজন্ম কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-কে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই নির্বাচনে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) অধিকাংশ পদে জয় পেয়েছে।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
বিজেপির অভিযোগগুলো কংগ্রেস সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বিজেপির অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণে মোদীর বিদেশ নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, কোনো বন্ধুর বাড়িতে যাওয়া আর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশ সফর এক বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব বন্ধুত্ব করা নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আপাতত তুঙ্গে এবং কংগ্রেস-বিজেপি তরজা আরও নতুন মোড় নিয়েছে।
মন্তব্য করুন