আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লিড নিউজ ২৪:
উপসাগরীয় অঞ্চল বা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশব্যাপী নতুন করে লকডাউন স্টাইলের কঠোর বিধিনিষেধ ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতি অনুমোদন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান সরকার এমন পদক্ষেপ নিল; এর আগে গত মার্চ মাসেও জ্বালানি বাঁচাতে প্রায় একই ধরনের বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ এক লাফে ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত গাড়িগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি ও সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে রাত ৯টার মধ্যে সব ধরনের দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল ও মুদি দোকান বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, বিয়ের অনুষ্ঠান বা ম্যারেজ হলগুলো রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রেস্তোরাঁগুলোতে টেকঅ্যাওয়ে বা হোম ডেলিভারি সেবা এবং জরুরি সেবার অংশ হিসেবে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসি, পেট্রোল পাম্প ও আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সময়সীমার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য সরকারি খরচ কমাতেও কঠোর হয়েছে পাকিস্তান সরকার। নতুন গাড়ি ও অন্যান্য টেকসই সামগ্রী কেনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে (আইটি সরঞ্জাম ক্রয় ছাড়া)। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবৃত্তি বা বিশেষ কিছু প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দেওয়া হলেও একান্তই জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ যেতে হলে বিজনেস ক্লাসের বদলে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি খরচে ডিনার পার্টি, সেমিনার বা কনফারেন্স আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর বদলে ভার্চুয়াল বা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অফিশিয়াল মিটিংগুলো সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নন-এমপ্লয়ি সরকারি ব্যয় প্রতি মাসে ৫ শতাংশ হারে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের রুটগুলোতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে যাতে দেশের অর্থনীতি ও রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি না হয়, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই আগাম সতর্কতা হিসেবে পাকিস্তান সরকার দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউনের মতো এই কঠোর পথে হেঁটেছে।
মন্তব্য করুন