আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং শীর্ষ ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপসংক্রান্ত বহুল আলোচিত বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর গত শুক্রবার তিনি এই বিলে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই আইনের ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের বাণিজ্য শুল্কের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নতুন আইনের মূল বিষয়বস্তু ‘লিন্দসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিস্তৃত এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে রুশ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। যদিও আইনটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো দেশের ওপর শুল্ক বসিয়ে দিচ্ছে না, তবে হোয়াইট হাউসকে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা প্রদান করেছে।
এছাড়াও এই নিষেধাজ্ঞার পরিধিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া ট্যাংকারগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে এই প্যাকেজে।ভারতের জন্য শঙ্কার কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল আমদানি করে আসছে ভারত। বর্তমানে ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে রাশিয়া। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই আইনের পূর্ণ প্রয়োগ ঘটিয়ে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তবে দেশটির টেক্সটাইল, ওষুধ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক সমীকরণ ভারতের পক্ষ থেকে আগেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে নয়াদিল্লি সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসন এই আইনটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যাতে ভারত ও চীন রাশিয়ার সঙ্গে তাদের জ্বালানি বাণিজ্য কমিয়ে আনে। তবে আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে হোয়াইট হাউস এই ক্ষমতা কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
মন্তব্য করুন