ডেস্ক রিপোর্ট, লিড নিউজ ২৪ঃ
মুম্বাই: পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন লুকিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT) ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের হোস্টেলের কক্ষে ফিরে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী।গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আইআইটি ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে পরীক্ষা চলাকালীন ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে উত্তর খুঁজছিলেন। পরিদর্শকের নজরে এলে তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কোর্স ইন্সট্রাক্টর তাকে ডেকে কাউন্সেলিং করেন। তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, এই ভুলের কারণে তার শিক্ষাজীবন বা ক্যারিয়ারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এরপরই ওই শিক্ষার্থী তার হোস্টেলের কক্ষে ফিরে যান। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই কক্ষ থেকেই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনকে দায়ী করার অভিযোগ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পওয়াই ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং শিক্ষকদের রূঢ় আচরণের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী প্রণয় বলেন, “আমাদের কলেজে আজ আরও একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। আমরা এখানে জড়ো হয়েছি প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার দাবিতে। এ বছর আমাদের ক্যাম্পাসে এটি চতুর্থ আত্মহত্যার ঘটনা, যার মধ্যে গত দুই মাসেই দুটি ঘটল। যেসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) দত্তাত্রয় নালাওয়াদে জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আইআইটি প্রশাসনের সাথে আলোচনা চলছে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। অংশ নামের আরেক শিক্ষার্থী সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমাদের কোনো এক সহপাঠী হয়তো ভেতরে ভেতরে লড়াই করছিল। এখন প্রশাসন বনাম শিক্ষার্থী লড়াই বা একে অপরকে দোষারোপ করার বদলে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই (AI) টুলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার হলে এসব প্রযুক্তির অনৈতিক ব্যবহার ধরা পড়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই লোকলজ্জা বা ক্যারিয়ার ধ্বংসের ভয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েন।
আইআইটি বম্বের এই ঘটনাটি আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও বেশি সংবেদনশীল এবং সহানুভূতিশীল হওয়া যে কতটা জরুরি, এই মর্মান্তিক পরিণতি তারই প্রমাণ দেয়।
মন্তব্য করুন