নিউজ ডেস্ক
৬ দিন আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৭ জন

ভেনেজুয়েলার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম

 নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার বেশিরভাগ স্কুল ছিল প্রায় ফাঁকা। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আবারও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হতে পারে— এই আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা একই নামের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত।
গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

ক্যারিবীয় দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু স্কুল।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় দিতে আরও ৬০টি স্কুল ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
ফলে অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে অস্থায়ী তাবুর নিচে।

মঙ্গলবার এমনই একটি তাঁবুতে পরিচালিত স্কুলে এক শিক্ষিকা ১৪ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মানসিক চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকেন।

৪৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা মারিয়া হেরেরা এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর শিশুরা এখনও মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও সংবেদনশীল অবস্থায় আছে। তাদের সঙ্গে যে বিষয়েই কথা বলুন না কেন, তারা শেষ পর্যন্ত ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলবেই। তাদের কথা শোনা খুব জরুরি, যাতে ভেতরে জমে থাকা আবেগগুলো তারা প্রকাশ ও সামলে নিতে পারে।’
অনেক অভিভাবক এখনো নতুন করে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় সন্তানদের পাকা ভবনের শ্রেণিকক্ষে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

লা গুয়াইরা বন্দরনগরীর হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল খোলা হয়েছে, তার একটি জন পল টু ডায়োসেসান এডুকেশনাল ইউনিট। নতুন শিক্ষাবর্ষে এই স্কুলে মাত্র ৩০০ জনের কিছু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অথচ স্কুলটির ধারণক্ষমতা এর দ্বিগুণেরও বেশি।

মঙ্গলবার স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মার্কো আন্তোনিও এসপিনোজা বলেন, ‘ক্লাসে ফেরার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ও নিরাপদভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মীদের মানসিক সুস্থতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ইয়ানেত দোমিঙ্গেস জানান, স্কুল ভবনটি কাঠামোগতভাবে কতটা নিরাপদ— এ নিয়ে অভিভাবকেরা তাকে বারবার প্রশ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে জানিয়েছি, ভবনটিতে এ বছর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। তাই আপনাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।’

৪০ বছর বয়সী শিল্প প্রকৌশলী আমনি নুনেস তার দুই ছোট সন্তানকে আবার স্কুলে পাঠিয়েছেন।
তার মতে, ভয় থাকলেও জীবনকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে নিতে হবে।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তাদেরকে বুঝতে হবে যে পৃথিবী তার নিজের গতিতে ঘুরছে। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী

স্পিকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর লাঙ্গল জোঁয়ালে হালচাষ আজ বিলুপ্তির পথে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ হামলায় নিহত ২

ঝিনাইদহে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে আশার আলো

জাপানে টাইফুন দুজুয়ানে ৪ জনের প্রাণহানি, ৪৫ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন ‘টুয়েলভথ ফেল’ অভিনেত্রী

সাতক্ষীরায় গাজী নজরুলের আসনে বিকল্প প্রার্থী নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত

১০

বগুড়ায় ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

১১

জাতিসংঘে ভাষণে ইরান যুদ্ধের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন ট্রাম্প

১২

লাকসামে নারীকে কু/পিয়ে জখম মা/ম/লার আ/সা/মি দিদার গ্রে/প্তার

১৩

পাকিস্তানের কাছে হেরে পদক হাতছাড়া বাংলাদেশের

১৪

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৭৪

১৫

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১৬

‎‎আশুলিয়ায় কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লড়িতে ভয়াবহ আগুনে ৭ জনের মৃত্যু ; ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

১৭

দিনাজপুর বীরগঞ্জে নারী স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

১৮

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেনাপোল থেকে দুরপাল্লার আমদানি-রপ্তানি পণ্যের  ভাড়া বেড়েছে

১৯

নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের সদর- ৫ সাংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

২০