সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪:
দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ করলেও তাঁর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ এড়িয়ে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের অংশ হিসেবে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মোদীর দেওয়া এই জমকালো গালা ডিনারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত থাকলেও সেখানে দেখা মেলেনি শি জিনপিংয়ের। আর তা ঘিরেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
নয়াদিল্লিতে শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে মোদী ও শির মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শীর্ষ নেতাদের এমন মুখোমুখি বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে সীমান্ত শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর মতো নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মোদীর নৈশভোজে চীনা প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি সবাইকে চমকে দেয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের মতবিরোধ বা অসন্তোষ থেকে শি নৈশভোজ এড়িয়েছেন কি না—সে বিষয়ে ভারত কিংবা চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ভ্রমণের পর দিনভর টানা একাধিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় ক্লান্ত হয়ে বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে যান তিনি।
এদিকে একই নৈশভোজে যোগ দেননি আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও। তবে তিনি সম্মেলন শেষ করেই দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু শি জিনপিং শহরে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ নেতার আয়োজনে অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে বেশ কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বরফ গলার আবহে বৈঠক সফল হওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও প্রটোকল অনুযায়ী এমন শীর্ষ নৈশভোজ এড়িয়ে যাওয়া দিল্লির জন্য কিছুটা অস্বস্তির। ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন যে রাতারাতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, প্রতীকী এই পদক্ষেপে তারই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
মন্তব্য করুন