সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪
ঢাকা |
সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে আচমকা ঝটিকা মিছিল বের করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই নাশকতার চেষ্টা নস্যাৎ হয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৪ জন নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া অপর এক আসামিকে শিশু দাবি করায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে এ বিষয়ে শুনানির জন্য রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক আসামিদের রিমান্ডের এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন লিড নিউজ ২৪-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে যা হলো
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার কড়া নিরাপত্তায় গ্রেপ্তার ২৫ আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন। এ সময় তিনি ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, নাশকতার পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক ২৪ আসামির প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তারা হলেন— মো. রহিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান, মো. মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াসার (সাফায়াত), মো. রাসেল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহমেদ, মো. সোহরাব, মো. হজরত আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, মো. হাবিব সিকদার, মো. জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, মো. ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, মো. নজরুল ইসলাম এবং মাসুদ হাসান শামীম।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও দেশকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত লক্ষ্যে সমবেত হন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সরকারবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে বাধ্য হয়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ডিএমপির এক বার্তায় জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতোয়ালিতে আরেক আ.লীগ নেতা রিমান্ডে
এদিকে, রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে করা অপর একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা মহানগর কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক অজিত ঘোষ কানাইয়ের (৬২) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই আদেশ দেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেটের সামনে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ১০০ থেকে ১৫০ জন সমবেত হয়ে ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। গত শুক্রবার কোতোয়ালির গোয়ালনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অজিত ঘোষ কানাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মন্তব্য করুন