বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
পাশাপাশি আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া।
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় এটি তাঁর প্রথম সফরও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দলিল বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বাংলাদেশের জন্য এটিকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার বিষয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও অভিহিত করেন তিনি।
প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
তাঁরা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
উভয় নেতা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী বাংলাদেশ। তাঁরা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
উভয় দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের একটি কাঠামোবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হন দুই নেতা।
বাংলাদেশের আরসিইপি আবেদনে মালয়েশিয়ার সমর্থন
গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলে কৌশলগত ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে মালয়েশিয়া জানায়, ভবিষ্যতে আরসিইপি-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ এ সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় সমর্থন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ানের কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন