এল.আলি:
কলকাতা কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের আয়োজনে পালিত হল রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পাঠ্যপুস্তকে মহাপুরুষদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় এই দাবিকে মান্যতা দেবেন বলে অনেকের অভিমত। তিনি বলেন, বর্ধমানের ভূমিপুত্র কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহ, সাম্য ও সম্প্রীতির বাণী এবং রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতার শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। নজরুলের কলম শিকল-ভাঙার গান শুনিয়েছে, শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, হিন্দু-মুসলিমকে এক সুরে গেঁথেছে। তাঁর সাহিত্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে দিশা আছে, তা আজকের সমাজেও পথ দেখাতে পারে। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা যেমন আত্মশক্তির বিকাশ ঘটায়, তেমনি নজরুলের লেখনী অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি কানন হাঁসদা, কবি আরণ্যক বসু, কবি বরুন চক্রবর্তী, ডঃ আকবর আলি সাহ, অধ্যাপক ডঃ কৃষ্ণেন্দু দে, চেয়ারম্যান ডঃ দীপা দাস ও সভাপতি রঞ্জনা গুহ। খোলা জানালার সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গীত শিল্পী উমা সিনহা ও কনিনীকা রায়চৌধুরীর পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। শতাধিক কবি স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। নব্য কবি ও সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে হলজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। কবিতা লেখা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা দশজনকে সম্মাননা প্রদান করেন রঞ্জনা গুহ, সঙ্গীতা বসু রায় ও শিব শংকর বক্সি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন সুমিতা পয়ড়্যা।
মন্তব্য করুন