নওগাঁ রানীনগর প্রতিনিধি :
মো.নেকীদুল ইসলাম নিকঃ
নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিস্তীর্ণ ৩৪০ একর খাস জমির ওপর অবস্থিত ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল এখন জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বিলকে ঘিরে বসবাসরত ২৩টি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিলটি পুনঃখনন করা না হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে রক্তদহ বিলকে কেন্দ্র করে আশপাশের হাজারো মানুষ কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়ায় বর্তমানে বিলটির অধিকাংশ এলাকা বছরের বড় সময়জুড়ে জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এতে করে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং কমে গেছে ফসল উৎপাদন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে এই বিলে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা গেলেও বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে মাত্র একটি ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় মাছের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে কৃষক ও জেলেদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা হলে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বিলটি পুনঃখননের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।
রক্তদহ বিল পুনঃখননের সম্ভাবনা ও বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে সম্প্রতি বিল এলাকায় যান নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম (রেজু)। এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা বিলের বর্তমান অবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এসময় দ্রুত পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, রক্তদহ বিল শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বিলটি পুনঃখনন করা হলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশেও ফিরবে ইতিবাচক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠবে।
তাই জীবিকার মান উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল পুনঃখননের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন