সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরমধ্যে পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে খুলনার ২৫ লাখ মানুষ পাবে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার সকল রেকর্ড।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বুধবার সংসদে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করেন। পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদন শেষে জেলাবাসীরা আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ই-হেলথ কার্ড হলো একটি ইলেকট্রনিক কার্ড যা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি বহন করবে। এই কার্ডের মূল কাজ হলো রোগীর প্রতিটি মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা। যখনই কোনো রোগী হাসপাতালে যাবেন, চিকিৎসকরা এই কার্ডটি ব্যবহারের মাধ্যমে তার পূর্বের সব রোগের ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ওষুধের বিবরণ মুহূর্তেই দেখতে পাবেন। মূলত এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করার একটি আধুনিক পদ্ধতি। এতে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝামেলা থাকবেনা, কমবে হয়রানি ও দুর্ভোগ।
খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কপিলমুনি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও সদর আরবানে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি জেনারেল হাসপাতাল, কয়রায় ৩১টি, পাইকগাছায় ৩৭টি, ডুমুরিয়ায় ৪০টি, ফুলতলায় ১০টি, দিয়লিয়ায় ১৬টি, তেরখাদায় ১৪টি, রূপসা ও বটিয়াঘাটায় ২০টি করে এবং দাকোপে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ছুটির দিন বাদে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে সংকট লেগেই থাকে।
এছাড়া জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও নার্সের জন্য ৩৫৫টি পদ থাকলেও ১৫৬টি পদ শূন্য। শূন্যপদ গুলোর মধ্যে রয়েছে ৩ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), ২ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), ৩ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), ৩ জন জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ, ৬ জন জুনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ৭ জন জুনিয়র চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ, ৭ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ৬ জন মেডিকেল অফিসার, ২১ জন সহকারী সার্জন, ২৬ জন জরুরি মেডিকেল অফিসার, ৩৬ জন ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী সার্জন, ১ জন প্যাথলজিস্ট, অন্যান্যরা স্টাফ নার্স, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, হেলথ এডুকেটর, ওয়ার্ড বয়, সুইপার ও ল্যাব এটেনডেন্ট।
এদিকে, উপকূলবর্তী জেলা খুলনার রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা ও কয়রায় ডায়রিয়ার প্রকোপ ১২ মাসই থাকে।
গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় ৫ হাজার ২৫৮ জন আক্রান্ত হয়।
আক্রান্তদের তালিকায় ফুলতলা উপজেলা শীর্ষে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে সহস্রাধিক শিশু আক্রান্ত হয়।
এসব কিছু বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অনুকরণে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে খুলনার ২৫ লাখ নারী পুরুষকে। রোগের বিবরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পূর্বের অসুখ বিসুখের বিবরণ ও ওষুধ সেবনের রেকর্ড দেখে চিকিৎসা দিতে এই জেলাকে পাইলটিং এর আওতায় আনা হয়েছে। এই বছরের মধ্যে জেলার রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবে। প্রতিবছর ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এই জেলার শ’ শ’ রোগী ভারতে চিকিৎসা নিতে যায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদন শেষে জেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা আরো সহজতর হবে, আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবেন তারা- এমনটাই প্রত্যাশা খুলনাবাসীর।
মন্তব্য করুন