বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁ: রশিদুল হক জীবন।
নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যার পেছনে হামের সংক্রমণ দায়ী বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতিমধ্যে জেলায় আটজন রোগীর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নওগাঁর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ থাকা ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এই আটজন শনাক্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নে।
বর্তমানে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার এক শিশুকে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যাসংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু বিভাগে ২০টি শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে, যার ফলে একই বিছানায় একাধিক রোগী রাখায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। এমনকি থার্মোমিটার না থাকায় হাত দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হচ্ছে বলেও তারা জানান। একই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, জ্বর ও হামের রোগীদের রাখা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ জেনাত রেহেনা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরএমও ডা. আবু জার গাফফার বলেন, হামের রোগীদের জন্য একটি কেবিন আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে এটি আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোর আশপাশের প্রায় ৪০টি বাড়ির শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি পোরশা, সাপাহার, মান্দা ও আত্রাই উপজেলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী মে মাসে এমআর টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্তব্য করুন