শক্তিশালী একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে। র্কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুর্গম উপকূলীয় শহরগুলোতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
তীব্র শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’ কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের উত্তর প্রান্তে আঘাত হানে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সিডনী থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি আবহাওয়া সংস্থা জানায়, বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও (১২৪ মাইল) বেশি।
কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার ডেভিড ক্রিসাফুলি বলেন, ‘রাজ্যের এই অংশে বসবাসকারী মানুষের জন্য এটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাসের অভিজ্ঞতা।’
ঘূর্ণিঝড়টি চার মাত্রার (ক্যাটাগরি-৪) অতি প্রবল ঝড় হিসেবে উপকূলে আঘাত হানে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী শ্রেণিভুক্ত ঝড়। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর এটি দ্রুত দুর্বল হয়ে তিন মাত্রায় (ক্যাটাগরি-৩) নেমে আসে।
কুইন্সল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের মানচিত্র অনুযায়ী, এটি অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর ওপর দিয়ে যাবে না। তবে বেশ কিছু ছোট শহরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে।
কুক শায়ার কাউন্সিলের মেয়র রবিন হোমস বাসিন্দাদের বাথটাব বা পাত্রে পানি ভরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনে জরুরি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসিন্দাদের ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। পরিস্থিতির আরও খারাপ হবে- এটি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।’
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসদাতা অ্যাঙ্গাস হাইন্স বলেন, বাতাসটা এতটাই শক্তিশালী যে এটি বড় বড় গাছ উপড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট।
গবেষকরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবানল, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
মন্তব্য করুন