ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস রাজশাহীর শালবাগানে। তার পিতা মরহুম মো. ফজলার রহমান ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তা এবং মাতা মরহুমা লতিফা খাতুন একজন হাফেজা ও গৃহিণী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মিনু রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি, রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ম মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং তৎকালীন দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ ও ২০০১ সালে দু’বার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মেয়র সম্মেলনে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজশাহীর উন্নয়নে ২০০৬ সালে তার মেয়াদকালে রাজশাহীকে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস-এর গবেষণায় বাংলাদেশের সবচেয়ে সুখি শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছরে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলন এবং ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিরসনে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সফল সমাধানে ভূমিকা রাখেন।
উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল রোড মার্চ, রেল মার্চ এবং ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রাম অভিমুখে চলাকালে কাঁচপুর ব্রিজ অবরোধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে উত্তরাঞ্চল ও জাতীয় রাজনীতিতে মিজানুর রহমান মিনু উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পরিক্রমায় গণতান্ত্রিক বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় তিনি বহুবার কারাবরণ করেন এবং নির্যাতনের শিকার হন।
নগর উন্নয়ন, জনসেবা, সবুজ, পরিচ্ছন্ন শান্তিপূর্ণ মহানগরী ও রাজশাহীর উন্নয়নের মহারূপকার এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদীনের সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার সহধর্মিণী সালমা শাহাদাত রাজশাহীর মাদার বখ্শ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন