স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও সফরকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপিতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২০ মে তার ঠাকুরগাঁও সফরে আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র জেলা নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, এই সফরেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা আসবে। এ সফর উপলক্ষে দলটি আজ এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের সভাপতিত্বে দলের জেলা কার্যালয়ে আজ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২০ মে ২০২৬ ঠাকুরগাঁওয়ের আপামর জনসাধারণের জন্য নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন বিএনপির মহাসচিব এবং এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সাথে থাকবেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এদিনই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলার শিবগঞ্জে একটি বিমানবন্দর রয়েছে। একসময় এটি সরকারি ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে বিমানবন্দরটি পরিত্যক্ত রয়েছে। ১৯৪০ সালে ৫৫০ একর জমির উপর বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনী এখানে হামলা চালালে বিমানবন্দরের রানওয়েটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই বিমানবন্দরটি ১৯৭৭ সালে সংস্কার করা হয়। তারপর থেকে কয়েক বছর এখানে কিছু বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। আগ্রহের অভাব এবং যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম থেমে যায় এবং ১৯৮০ সালে এটি পরিত্যক্ত হয়।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া এবং এই এলাকার সংসদ সদস্য বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দেন। এলজিআরডি মন্ত্রীর আসন্ন ঠাকুরগাঁও সফরকে কেন্দ্র করে এই বিমানবন্দর পুনরায় চালুর ব্যাপারে স্পষ্টতই সবুজ সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২০ মে এই ঘোষণা আসতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপির জেলা নেতৃত্ব।
মন্তব্য করুন