(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নাগরিক সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা। একজন দক্ষ প্রশাসকের সফলতা তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তাঁর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং উন্নয়নের সুফল পৌঁছে যায় সমাজের প্রতিটি স্তরে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গত এক বছরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামানের দায়িত্বপালন নিয়ে স্থানীয় মানুষের মূল্যায়নে এমন ইতিবাচক প্রতিচ্ছবিই উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ৭ মে থেকে ২০২৬ সালের ৭ মে পর্যন্ত এক বছরের দায়িত্বপালনে তিনি উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতার সমন্বয়ে একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর মাঠমুখী তৎপরতা এবং আন্তরিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর তদারকি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নজরদারি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি কার্যকর প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ইউনিয়নভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ভেজাল ও অনিয়মবিরোধী অভিযান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান ও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সরকারি সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে।
উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আগে ছোট ছোট কাজ নিয়েও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন ইউএনও স্যার মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণও অনেক আন্তরিক।”
ডিমলা সদর এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “সরকারি সহায়তা বণ্টনে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃত উপকারভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন, এটা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করেছে।”
খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “শিক্ষা ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশাসনের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তরুণদের জন্যও বিভিন্ন ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার মানসিকতা আগের চেয়ে বেড়েছে। এতে মানুষ প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরে পাচ্ছে। এখন মানুষ মনে করে প্রশাসনের কাছে গেলে কথা শোনা হয়।”
জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাকেই একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউএনও মোঃ ইমরানুজ্জামান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের প্রতি মানুষের যে দূরত্ব ও ভীতি থাকে, তা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “ডিমলা উপজেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমি সবসময় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। জনগণের সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ডিমলাকে আরও উন্নত ও সম্ভাবনাময় উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সচেতন মহলের মতে, উন্নয়নের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংবাদিক সমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এক বছরে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তারা।
উন্নয়ন ও জনসেবার ধারাবাহিকতায় ডিমলায় ইউএনও ইমরানুজ্জামানের এক বছরের কর্মযাত্রা ইতোমধ্যেই স্থানীয়ভাবে প্রশংসা, আস্থা ও আলোচনার জায়গা করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন