দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬ দিন বন্ধ থাকার পর প্রথম ইউনিট থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি চালু করতে ট্রায়েলে দেয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্র জানায়, চালু হওয়া প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
এরআগে গত ২৫ এপ্রিল ইউনিটটির বয়লারের পাইপ ফেটে গেলে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র জানায়, পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে এই ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। প্রথমে দু’টি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছিল।
গত ২০১৭ সালে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিট যুক্ত হয়। তবে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোহসিনুল ফিরোজ বাসস’কে জানান, বন্ধ হয়ে থাকা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ইউনিট দু’টি মেরামত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩ নম্বর ইউনিটের ওভার হোল্ডিং কাজ চলছে। মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী ১৫মে’র মধ্যে তৃতীয় ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরআগে একাধিকবার যান্ত্রিক ত্রুটি ও বয়লারে পাথর ঢুকে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
মন্তব্য করুন