(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া–পাগলাপীর সড়কের সুইচগেট এলাকায় গভীর রাতে পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র ডাকাত দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে একের পর এক ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। এ সময় তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের সুইচগেট এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল আগে থেকেই অবস্থান নেয়। তারা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এরপর ধারালো অস্ত্রের মুখে যানবাহন থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে।
ডাকাতরা কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে এবং যাত্রীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকেই জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যারা দ্রুত জানালা খুলতে দেরি করেন বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের ওপর বেশি নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার সময় রাত আড়াইটার দিকে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ডিমলা থানায় খবর দেন। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়, তবে যাওয়ার আগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ডিমলা থানা ও র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রাম থেকে নুরল হকের ছেলে আ. মালেক (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিমলা থানার এসআই পরিতোষ রায় জানান, “এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে এবং দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ওই সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার এবং দ্রুত সব ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন