যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ১৫ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নিউইয়র্ক টাইমস দু’জন অজ্ঞাত কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে, যার সময় এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার প্রক্রিয়া চলবে।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা উপাদান হস্তান্তর করতে হবে—যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
এতে বলা হয়েছে যে, ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরানের আংশিক প্রতিশোধমূলক অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে।
এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বুশেহর স্থানে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। এই স্থাপনাটিকে ইরান সম্প্রতি ইসরাইল হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে।
হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তর এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একযোগে চালানো বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। এর আগে ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকার ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন