নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে আটক করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার কেরাণীগঞ্জের মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবু দীর্ঘদিন ধরে যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সে যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের তত্ত্বাবধানে একটি দল ৯ জুন ২০২৬ দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় গোলচত্বরের পূর্বপাশে নাসির উদ্দিন সর্দার মার্কেটের সামনে যশোরগামী ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে সাধারণ যাত্রীবেশে থাকা বাবুল হোসেন ওরফে বাবু, ৪৫, কে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬,০ পিস ইয়াবাট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু জানায়, তার বাড়ি কেরাণীগঞ্জের আঁটি এলাকায় হলেও বর্তমানে সে যশোরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। যশোরে অবস্থানের সুবাদে যশোর, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। কেরাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ক্সবাজারের টেকনাফের কারবারিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে।
সে প্রথমে টেকনাফ থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবা ঢাকার কেরাণীগঞ্জে আনে। এরপর বাসযোগে যশোর হয়ে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশালসহ স্থানীয় কারবারিদের কাছে পাইকারি সরবরাহ করত। মহাসড়কে কড়া নজরদারির কারণে সে এই বিকল্প রুট ব্যবহার করছিল। এভাবে সে আরও বেশ কয়েকটি বড় চালান পাচার করেছে বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানায় উপপরিদর্শক মো. আবু নাসের বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিএনসি জানিয়েছে।
ডিএনসি জানায়, দেশে ইয়াবাসহ যেকোনো অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন