প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসাধারণ সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। গান, নৃত্য, আবৃত্তি, গল্প বলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের এই সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে টেলিভিশনে সম্প্রচার এবং আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ ঢাকার মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ (ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিং) এর ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চমৎকার পরিবেশনা উপস্থাপন করেছে। তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আগামী দিনে আমরা আরো উন্নত ও মানসম্মত আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সেরা পারফরম্যান্স দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। তাদের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সৃজনশীল নেতৃত্ব গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকশিত করতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
আগামী বছর থেকে এই প্রতিযোগিতা আরো বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতাগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা উপভোগ করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পুরস্কারের পরিধি ও মূল্যমান আরো বাড়ানো হবে।
বিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করতে নতুন এক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি জাতীয় বা বিভাগীয় পর্যায়ে বড় কোনো পুরস্কার অর্জন করে, তবে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যও বিশেষ আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে। এতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আরো বেশি যত্নশীল ও উৎসাহিত হবেন।
স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম আরো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতাসমূহে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করে একটি উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পিটিআইয়ের প্রশিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্রফি, সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
মন্তব্য করুন