| |

Ad

প্রকৃতির ছন্দপতনে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

আপডেটঃ 8:24 am | April 13, 2019

বায়েজীদ মুন্সী : ঋতুচক্রের হিসেবে আর মাত্র একদিন পরেই গ্রীস্মের শুরু। তাইতো বেসামাল হয়ে পড়েছে প্রকৃতি। কখনো খুবই গরম, এরপর হঠাৎ চারদিক ঢেকে যায় কালো মেঘের চাদরে। মুহূর্তের মধ্যেই হঠাৎ বৃষ্টি। ফলে উষ্ণতা রূপ নেয় শীতল পরশে। প্রকৃতির এ ছন্দহীনতায় পড়ছে মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছে সর্দি, জ্বর, চর্মরোগ,  ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, হিটস্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধসহ সব শ্রেণির মানুষই রয়েছে। তবে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই এসব হাসপাতালে সর্দি, জ্বর, শরীর ব্যাথা, চর্মরোগ, হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর  সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে।
ভুক্তভোগী আকতার হোসেন জানান, তার পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত সপ্তাহে প্রথম মেয়ের গায়ে প্রচণ্ড জ্বর ওঠে। ওষুধ খাওয়ানোর পরও কমছিল না। পরে চিকিৎসক জানিয়েছেন তার সুস্থ হতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। এরমধ্যেই স্ত্রীও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। আর এখন নিজেও আক্রান্ত।
গত তিন দিন ধরে প্রচণ্ড  জ্বরে ভুগছেন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার বাসিন্দা মাসুদ করিম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই গায়ে প্রচণ্ড জ্বর আসে। তখন জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ার পরেও ওই রাতে জ্বর কমেনি। পরের দিন পর্যন্ত ওষুধ চালিয়ে গেলে একটু কম অনুভব হয়। কিন্তু পরে আবার প্রচণ্ড  জ্বর এসেছে। শরীর খুবই দুর্বল লাগছে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, সাধারণত গ্রীস্ম মৌসুমে তাপমাত্রা বেশিই থাকে। আবার মাঝে মধ্যে যখন বৃষ্টি হয় তখন একটু ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। এ পরিস্থিতিতে সর্দি, জ্বর, মাথাব্যাথা, শরীরব্যাথা, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বছরের যে কোনো সময়ই এসব রোগ হতে পারে। তবে এসময়ে মানুষকে বেশি আক্রান্ত করে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে যথেষ্ট পরিমানে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সর্দিতে নাক বন্ধ থাকলে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। গলা ব্যথায় গরম পানির গার্গল করতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য রোগীর সংস্পর্শে আসলে হাত ধুতে হবে, রোগীর চাঁদর বালিশ তোয়ালে রুমাল আলাদা রাখতে হবে। যাদের টনসিল, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি আছে তারা ঠা া পানি, আইসক্রিম, বরফ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং অতিমাত্রায় জ্বর (১০২ ডিগ্রীর বেশি), শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা এবং ঘাড়, মুখ বা গলায় ফুলে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে জানান তিনি।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব বলেন, গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সর্দি, কাশিসহ আরও কিছু শারীরিক সমস্যা। তাছাড়া শুষ্ক আবহাওয়া ও রাস্তায় প্রচুর ধুলাবালি থাকায় বাতাসে অ্যালার্জেনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। তাই যথাসম্ভব ধুলাবালি এড়িয়ে চলা উচিত।
তিনি বলেন, এ মৌসুমে খুব দুষ্ট ও সংক্রামক ভাইরাস হলো পাকস্থলী ভাইরাস। সারা বছর এর গতি অগ্রতিহত থাকে যা এসময়ে খুব তীব্র হয়। এমন পরিস্থিতিতে খাবার আগে ভালভাবে হাত পরিস্কার করা এবং খাবার পানি ভালভাবে ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গরমে ঘামের সাথে প্রচুর লবণ পানি বের হয়ে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণ করতে স্যালাইন খাওয়ার কথা বলেন। কাশি বা শ্বাসকষ্ট রোগের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ১ সপ্তাহের বেশি কাশি হলে, বুকের ভেতর কফ জমে থাকলে, সবুজ বা হলুদ কফ হলে, বুকের ভেতর শব্দ হলে এবং শ্বাস প্রশ্বাস বেশি অথবা শ্বাসকষ্ট এর যে কোনটি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে জানান তিনি।